Image

আগামীকাল ১০ই মুহাররম ৬ জুলাই রবিবার ইয়াওমুল আশুরা । কিছু কথা— বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ⏩মুসাদ

Post_ID : 1685 | Post by_User : 96 | Date: 05-07-25

আগামীকাল ১০ই মুহাররম ৬ জুলাই রবিবার ইয়াওমুল আশুরা । কিছু কথা—


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 


⏩মুসাদ্দাদ (রহঃ) ... রুবায়্যি’ বিনত মু’আব্বিয (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আশুরার সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যাক্তি সাওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সাওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সাওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি) (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন রোযা রাখতাম এবং আমাদের শিশুদের রোযা রাখাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরী করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ইফতার পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখতাম।(বুখারী)


প্রিয় ভাইয়েরা! চিন্তা করে দেখুন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাদের ছোট্ট ছোট্ট সন্তানদেরকে রোযা রাখাতেন, এমনকি জেদ ধরলেও খেলনা দিয়ে ভুলিয়া রাখতেন যাতে করে পরবর্তীদের মাঝে এই আমল হারিয়ে না যায়। 


এর থেকে সহজেই বোঝা যায়, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই আমল। 


আর এই যদি হয় নফল রোজার ব্যাপারে তাদের অবস্থান তবে চিন্তা করুন, রমাদানে তাদের আচরণ কেমন ছিল ? 


আর আমাদের অনেক ভাইয়েরা রামাদানেও সিয়াম ছেড়ে দেয়। রাব্বে কারীম আমাদের হেফাজত করুন।


⏩ আশুরার সাওম দুই দিন।


যেহেতু আশুরার ইতিহাস ইহুদিদের সাথেও সম্পৃক্ত। এবং এই দিনে তারাও রোযা রাখতো। তাই রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন,


“তোমরা আশূরার রোযা রাখো এবং ইহুদীদের সাথে মিল রেখো না—একদিন আগে বা পরে একটি রোযা রাখো।”

(মুসনাদ আহমাদ)


✅তাই উচিত ছিল - শনিবার এবং রবিবার এই দুইদিন রোযা রাখা। যারা পারেন নি তারা রবিবার এবং সোমবার - ৬ ও ৭ জুলাই রাখার চেষ্টা করুন ইনশাআল্লাহ।


⏩আর আশুরার ইতিহাস নতুন নয়; বরং এই ইতিহাস এবং এর আমল প্রাচীন। 


ইহুদিরা আশুরার দিন রোজা রাখতো। 


ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনা্য় আসেন তখন দেখতে পেলেন ইয়াহূদীরা ‘আশুরা দিবসে সাওম পালন করে। তাদেরকে সাওম পালনের কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, এদিনই আল্লাহ্ তা‘আলা মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাঈলকে ফিরাউনের উপর বিজয় দিয়েছিলেন। তাই আমরা ঐ দিনের সম্মানে সাওম পালন করি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আঃ)-এর বেশি নিকটবর্তী। এরপর তিনি সাওম পালনের নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম)


এই হচ্ছে আশুরার সাওম পালনের ইতিহাস। 


⚠️কিন্তু বর্তমান সময়ে কারবালা কেন্দ্রিক আশুরা পালনের যেই অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি দেখা যায়, এগুলো কাম্য নয়। নিঃসন্দেহে কারবালার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। মুমিন মাত্রই এ বিচ্ছেদকে তারা বড় বিপর্যয় বলেই বিশ্বাস করে।

তাই বলে, আশুরা কারবালার জন্য নয়, বরং কারবালা পরবর্তী প্রেক্ষাপট। 


✅কারবালার জন্য শোক থাকবে। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে। চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরবে। সেটাও প্রতিনিয়ত। শুধু এই দিন আসলেই এমন তা নয়। কিন্তু এই শোক পালন করতে গিয়ে "মাতম" নামক বাড়াবাড়ি ইসলাম অনুমোদন করে না। যেখানে অস্ত্র দিয়ে নিজের শরীরে নিজেই আঘাত করা হয়। রব্বে কারীম হেফাজত করুন।


⚠️আবার আশুরা কেন্দ্রিক খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়। মনে হয় কোনো অনুষ্ঠান।


বাঙালির এই "খাই খাই" মেন্টালিটি টা মাথায়ই ঢোকে না। মানে, কী হয় হউক! এদের খাইতেই হবে। মানুষ মরে গেলেও খাইতে হবে। অথচ সীরাত (রাসুলের জীবনী) ভিন্ন কিছু বলে। কোন ভালো খবর হলেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রাখতে নির্দেশ দিতেন। 


যেমন তার নিজের জন্মের দিন। আশুরার দিন। কিন্তু কোথাও খাওয়ার কথা নেই। বরং রোজা রেখে "না খাওয়ার" প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। 


✅আবার আশুরার রোযা রাখা না রাখার ব্যাপারে ইচ্ছাধীন করা হয়েছে। যার ইচ্ছা রাখবে , যার ইচ্ছা রাখবে না। তাই কেউ রোযা না রাখলে গোনাহগার হয়ে যাবে, এমনটাও ভাবা যাবে না 


ইয়াওমুল আশুরা

আবু ফাকের

Related Products

Free Shipping

Free on order over ৳. 500

Security Payment

100% security payment

7 Day Return

7 day money guarantee

24/7 Support

Support every time fast