Image

নাস্তিকদের খোঁচামারা যুক্তি ছিলো- ইন্টারনেট যেহেতু ইহুদি নাসারাদের তৈরি, সো এটা মুসলমানদের ব্যবহার ক

Post_ID : 1947 | Post by_User : 96 | Date: 06-07-25

নাস্তিকদের খোঁচামারা যুক্তি ছিলো- ইন্টারনেট যেহেতু ইহুদি নাসারাদের তৈরি, সো এটা মুসলমানদের ব্যবহার করা উচিৎ না।


ইদানীং ফেসবুকেও কিছু ছোটলোক নব্য নাস্তিক, সমকামী এবং সমকাম সমর্থকদেরও একই যুক্তি দিয়ে মুসলমানদের কটাক্ষ করতে দেখছি।


জাকারবাগ সমকাম সমর্থক, তাই মুসলমানদের ফেসবুক ব্যবহার করা উচিৎ না, ফেসবুক আইডি ডিলিট করা উচিৎ, ফেসবুক নেটওয়ার্কিং সাইট- ধর্ম প্রচারের জায়গা না, ব্লা ব্লা ব্লা...


ভাইসব!

আপনাদের যুক্তি কতটুকু ঠিক আছে, তবে অনেক পিছায়ে আছেন। ডিজিটাল যুগে এনালগ থাকলে চলবে? আরেকটু মডার্ন হোন কেমন!

ফেসবুকের শুরুটা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট হিসাবে ছিলো, সেই ধারণা অনেক আগেই বদলেছে। ফেসবুক এখন শুধু নেটওয়ার্কিং এ সীমাবদ্ধ নেই। ফেসবুক থেকে হাজার কোটি ডলারের বিজনেস হচ্ছে, ফেসবুকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হচ্ছে, সাহিত্যের চর্চা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় রক্তদাতার খোঁজ মিলছে... এমন হরেক রকম চাহিদার মিলনস্থল এখন ফেসবুক। এতকিছু করলে আপনাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের কোনো সমস্যা হচ্ছেনা, বিরক্ত হচ্ছেন না, শুধু মুসলমানরা এখানে ধর্ম নিয়ে কিছু বললেই আপনাদের পশ্চাৎদেশ চুলকাতে শুরু করে?

আপনাদের ধারণা মতে শুধু ইহুদী খৃষ্টানরাই পৃথিবীর তাবৎ উন্নতিতে অবদান রাখছে। মুসলমানদের কোনো অবদান আপনারা ভোগ করছেন না?


তাহলে জেনে রাখুনঃ

রসায়নের জনক হচ্ছেন জাবির ইবনে হাইয়ান, একজন মুসলিম বিজ্ঞানী। তার আবিষ্কৃত তরলীকরণ, স্ফটিকীকরণ, সিদ্ধকরণ, শুদ্ধকরণ, অক্সিজেনের সাথে যুক্তকরণ, বাষ্পীভবন ও ফিল্টারেশন প্রক্রিয়া এখনো ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা হয়। সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড আবিষ্কারের পাশাপাশি তিনি চোলাইযন্ত্র আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের সর্বত্র তৈরি হচ্ছে গাঢ় গোলাপ জল, বিভিন্ন সুগন্ধি দ্রব্যাদি ও অ্যালকোহল।

আপনারা কান ধরেন, আজ থেকে অ্যালকোহলযুক্ত সবকিছু (ড্রিঙ্কস, পারফিউম, বডিস্প্রে) ছেড়ে দিবেন। রোগ হলে ঔষধ খাওয়া ছেড়ে দিবেন, এমনকি হাসপাতালেও যাবেন না। কারণ, এই হাসপাতাল ব্যবস্থার ধারণাও চালু হয়েছে মুসলমানদের হাত ধরে। আহমদ ইবনে তুলুন ৮৭২ সালে মিসরের রাজধানী কায়রোতে ‘আহমদ ইবনে তুলুন হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।


এই পোস্ট পড়তে পড়তে যদি চোখে কম দেখা শুরু করেন, তাহলে চশমাও কিনতে যাবেন না! কারণ, বসরা নগরীর বিখ্যাত মুসলিম পণ্ডিত আলহাজেন সর্বপ্রথম চোখের গঠন প্রণালি এবং চোখ কীভাবে কাজ করে সেটা বর্ণনা করেন। তিনিই প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করেন, চোখের দৃষ্টি রশ্মির সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অনুভূতি নেই। এ ছাড়া তিনিই প্রথম চশমার ধারণা দিয়ে বলেন, বাঁকানো কাচের পৃষ্ঠতল চোখের দৃষ্টি সহায়ক হিসেবে বিবর্ধনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।


আপনারা যে কফি গিলতে গিলতে এইসব চুলকানিমূলক লেখা গুলো লিখেন, সেটাও ইয়েমেনের মুসলিমদের আবিষ্কার।

আপনাদের বিজ্ঞান দাঁড়িয়ে আছে গণিতের ওপর। আর গণিত দাঁড়িয়ে আছে বীজগণিতের ওপর। পৃথিবীর প্রথম বীজগণিত নিয়ে প্রথম গ্রন্থটি রচনা করেছেন পার্সিয়ার বিখ্যাত মুসলিম গণিতবিদ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজম। তাকে গণিতশাস্তের জনক বলা হয়। সপ্তম শতকে তিনি রচনা করেন দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘আল-জাবর ওয়াল মুকাবলা’। তার রচিত এই বইটি থেকেই মূলত এই শাস্ত্রের নাম হয় আলজেবরা, যা আমরা এ্যালজেবরা হিসাবে জানি।


বিজ্ঞানী ইউক্লিড ও টলেমি বলেছিলেন, আলো চোখ থেকে বস্তুর উপর পড়ে বলেই আমরা দেখতে পাই। হাসান ইবনে হাইসাম নামের এক মুসলিম বিজ্ঞানী তাদের সেই ধারণ ভুল প্রমাণ করেন।

আর জগৎবিখ্যাত দার্শনিক, চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বীদ ইবনে সিনার নাম কে না জানে? আজকের আধুনিক চিকিৎসা, চিকিৎসা শাস্ত্র ও শল্যচিকিৎসা পথ প্রদর্শক হিসাবে মানা হয় তাকে।


মুসলমানদের অবদান এখানেই শেষ নয়!


বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ- আল-বেরুনি, হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল আবিষ্কারক- ইবনুল নাফিস, পদার্থ বিজ্ঞানে শূন্যের অবস্থান নির্ণয়কারী – আল ফারাবি, এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক - ওমর খৈয়াম, মোর্স কোড বা সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী - আল-কিন্দি, গুটিবসন্ত আবিষ্কারক - আল-রাজি, ত্রিকোণমিতির জনক - আবুল ওয়াফা, স্টাটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা - ছাবেত ইবনে কোরা, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্ধারণকারী - বানু মুসা, মিল্কিওয়ের গঠন শনাক্তকারী - নাসিরুদ্দিন তুসি, ল’ অব মোশনের পথ প্রদর্শক - ইবনে বাজ্জাহ, পৃথিবীর প্রথম নির্ভুল মানচিত্র অঙ্কনকারী – আল ইদ্রিসী, বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কারক – আল জাজারি।


এভাবে রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস সর্বত্র আছে মুসলমানদের অগ্রণী পদচারণা। সেসব আবিষ্কার ও গবেষণার আধুনিকরণ ঘটেছে, যার সুফল ভোগ করছে আজকের বিশ্ববাসী।


...পাদটীকাঃ

এসব আবিস্কার কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির উপকারের স্বার্থেই হয়েছে এবং সবারই কাজে লাগছে।

সংগৃহিত (Farid sir)

Related Products

Free Shipping

Free on order over ৳. 500

Security Payment

100% security payment

7 Day Return

7 day money guarantee

24/7 Support

Support every time fast