এখন সময়—শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর, দায়িত্ব নেয়ার
উত্তরার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা হারিয়েছি অনেক কোমলমতি প্রাণ—ছাত্র, শিক্ষক ও উদ্ধারকারী। এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কতজন আহত বা নিহত হয়েছেন। তবে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট—এই ক্ষত কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সারা বাংলাদেশের শিশুদের মনোজগতে এক গভীর আঘাতের সৃষ্টি করেছে।
এই মুহূর্তে আমরা বড়রা আবেগে ভেসে গিয়ে বারবার আলোচনা করছি। বারবার ছবি, ভিডিও, বিবরণ শেয়ার করছি। আমরা মনে করছি হয়তো দোয়া করছি, সহানুভূতি দেখাচ্ছি। কিন্তু আমরা বুঝে উঠতে পারছি না—এই আবেগগুলো আমাদের শিশুদের মনে আরও গভীর কষ্ট, ভয় আর অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
শুধু উত্তরার নয়, সারা দেশের শিশুরা এই খবর দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা মনে মনে ভাবছে—“আমার স্কুল কি নিরাপদ?” তাদের বন্ধুরা, সহপাঠীরা, এমনকি আত্মীয়রাও এই বিষয়ে কথা বলছে। এভাবে এক ধরনের ভয় তাদের মনে জায়গা করে নিচ্ছে।
এই সময় আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, আমরা যেন শিশুদের সামনে এই নিউজ নিয়ে বারবার আলোচনা না করি। ঘরে-বাইরে এই বিষণ্ণতা ও আতঙ্ক নিয়ে অকারণে হাহাকার না করি। বরং শিশুদের অনুভূতি মনোযোগ দিয়ে শুনি, বুঝে নেই, এবং তাদের মনে নিরাপত্তার বার্তা দিই। প্রয়োজনে তাদের মানসিকভাবে সহায়তা করার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করি।
শিশুরা বড়দের মতো না। আমরা বড়রা হয়তো কাঁদি, কিছুক্ষণ পর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি—ভুলে যেতে পারি। কিন্তু শিশুরা কাঁদে, তারপর চুপ করে থাকে। তাদের কষ্ট ভেতরে জমে জমে একসময় হতাশা, ভয়, রাগ বা আত্মগ্লানিতে রূপ নেয়। সেই কষ্ট যদি এখনই বোঝা না যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই এখনই সময়—এই নিউজ নিয়ে ঘন ঘন কথা বলা থেকে বিরত থাকার। শিশুদের সামনে কোনো ভিডিও বা মর্মান্তিক ছবি চালানো থেকেও বিরত থাকা জরুরি। সহানুভূতির নামে বারবার তাদের মনের দরজায় কষ্টের হাতুড়ি মারা উচিত নয়।
এখন দরকার একটি নিরাপদ মানসিক পরিবেশ তৈরি করা। যেন আমাদের শিশুরা বুঝতে পারে—এই পৃথিবী এখনও ভালোবাসায় পূর্ণ, আশায় পূর্ণ, নিরাপত্তায় ভরপুর।
— ইয়ার হোসেন, একজন পিতা, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক।
Free on order over ৳. 500
100% security payment
7 day money guarantee
Support every time fast