Image

নিঃসঙ্গ বেদুইন

Post_ID : 914 | Post by_User : 80 | Date: 24-06-25

গিফার গোত্রের এক ডানপিটে যুবক অসীম সাহসী। দুর্বার তার চালচলন। গোত্রের প্রায় সবাই খুন রাহাজানি আর ডাকাতি করে। নানান পাপাচারে তারা লিপ্ত।


সেটা ছিল জাহেলি যুগ।


গোত্রের অন্যদের সাথে যুবকও রাহাজানি আর ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়লেন।


তার ছিল যেমন সাহস, তেমনি ছিল বুদ্ধির বহর। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই তিনি বিখ্যাত ডাকাত হিসেবে পরিচিত হয়ে যান


তার ভয়ে চারদিকে কম্পমান। সবার মুখে মুখে ফেরে তার নাম।


কি ভয়ঙ্কর দস্যি যুবক!


সময় বয়ে যায় স্রোতের মতো। মৌসুমও বদগলে যায়। বদলে যায় হাওয়ার গতি।


কিছুকাল পরেই যুবক বুঝতে পারেন, কাজটি বড় অন্যায়। বড় জঘন্য! ডাকাতি রাহাজানি কি কোনো সভ্য মানুষের পেশা হতে পারে? কার জন্যে এসব? কিসের জন্যে?


নিজের ভেতর পুড়তে থঅকেন যুবক। পুড়তে থাকেন বিবেকের আগুনে।


পুড়তে পুড়তে রূপোলী ‍বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে যান তিনি। যুবক ছেড়ে দেন তার পাপের পেশা। ছেড়ে দেন ডাকাতি আর রাহাজানি। তারপর- তারপর খুঁজতে থাকেন সোনালি রোদ্দুর।


কোথায় সেই রোদ্দুর?


যার উত্তাপ তার মুষড়ে পড়া, ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়খানি আবার ভোরের মতো কোমল হয়ে উঠতে পারে?


জাহেলি যুগ।


তবু তিনি মূর্তিপূজা করেন না। দেব-দেবীর উপাসনাও করেন না।


ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদাতেই মশগুল হয়ে গেলেন তিনি। আল্লাহর ধ্যানেই কেটে যায় তার সকাল দুপুর। অষ্ট প্রহর।


তখনও তিনি নবীর (সা) সংবাদ পাননি। জানেন না রাসূলের (সা) কথা।


একজন বললো, মক্কার এক ব্যক্তি তোমার মতো ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে থাকেন। তিনি নবী (সা)। তাঁর কাছে ওহি আসে।


চমকে উঠলেন যুবক। তাই নাকি!


যুবকটির নাম আবুযার।


গিফার গোত্রে জন্ম বলে তিনি ‘আবুযার গিফারী’ নামেই পরিচিত এবং বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।


লোকটির কাছে নবীর (সা) আবির্ভঅবের সুসংবাদ পেয়ে আবুযার তার ভাই আনিসকে মক্কায় পাঠালেন। বললেন, নতুন নবীর (সা) সম্পর্কে সবকিছু ভাল করে জেনে আসবে।


আনিস মক্কায় গিয়ে নবী (সা) সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। তাকে দেখলেন। ফিরে এসে আবুযারকে সেসব কথা খুলে বললেন।


আবু যার শুনলেন। কিন্তু পিপাসা মিটলো না।


পরদিন তিনি নিজেই রওয়ানা হলেন মক্কার উদ্দেশ্যে।


আবুযার চলছেন মক্কার পথ বেয়ে। খুঁজছেন নবীকে (সা)। কিন্তু কারুর কাছে জিজ্ঞেস করতে পারছেন না। কোথায় তিনি?


মক্কার লোকেরা খুব খারাপ। তারা খুবই বদমেজাজি। আবুযার শুনেছেন তাদের সম্পর্কে এসব কথা। নবীর (সা) কথা জানতে চাইলে তারা ক্ষেপে গিয়ে মারতেও পারে।


সারাদিন ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত আবুযার। তবুও নবীর (সা) দেখা পেলেন না। দিন শেষে বিশ্রামের জন্যে শুয়ে পড়লেন মসজিদুল হারামের এক কোনায়।


পরদিন আবার বের হলেন।


ঘুরলেন মক্কার অলিতে গলিতে। আবারও ক্লান্ত হয়ে মসজিদে বিশ্রাম নিলেন।


হযরত আলীর (রা) চোখে পড়লো তার এই যাতায়াত। তিনি বুঝলেন এ কোনো আগন্তুক মুসাফির। কাছে গিয়ে বললেন,


আমার বাসায় চলুন। আপনি খুব পরিশ্রান্ত। বিশ্রাম নেবেন।


আলীর (রা) এ ক’দিন তার কাছে কিছুই জিজ্ঞেস করেনন। কিন্তু আজ তার মনে সন্দেহ দেখা দিল। মুসাফিরটি একমনে কাকে খুঁজছেন?


বললেন, আপনি কোন্‌ উদ্দেশ্যে মক্কায় এসেছেন?


আবুযার বললেন,


আমি বহুদূর থেকে এসেছি। এসেছি নতুন নবীর (সা) সাথে সাক্ষাতের আশায়। তাঁকে জানার জন্যে। বুঝার জন্যে। শংকিত হৃদয়ে আবুযার চেয়ে রইলেন আলীর দিকে।


আলী (রা) বললেন, কাল সকালে আমার পিছে পিছে যাবেন। তবে খুব সাবধানে। আমি যেখানে প্রবেশ করবো, আপনিও সেখানে প্রবেশ করবেন।


আনন্দ আর উত্তেজনায় অস্থির আবুযার। চোখে তার ঘুম নেই।


কখন শেষ হবে এই রাত? কখন হবে প্রভাত? সারারাত চেয়ে থাকেন প্রতীক্ষার চাতক।


প্রতীক্ষার পালা শেষ হলো।


অবশেষে পৌঁছুলেন তারা নবীর (সা) কাছে।


খুশিতে দুলে উঠলো আবুযারের প্রাণ। নবীকে (সা) দেখে ফুলে উঠলো তার বুকের ছাতি। সমুদ্রের মতো বিশাল হলো তার হৃদয়ের সাহস। ইসলামের দাওয়াত কবুল করলেন আবুযার গিফারী।


নবী (সা) বললেন, তুমি যে ইসলাম গ্রহণ করেছো- একথা এখন মক্কার কাউকে কিন্তু বলবে না। এরা কেউ জানতে পারলে তোমার জীবনের আশংকা দেখা দিতে পারে।


আমি মক্কা ছেড়ে যাবো না। যতোক্ষণ পর্যন্ত মসজিদে গিয়ে কুরাইশদেরকে প্রকাশ্যে সত্যের দাওয়াত দিতে না পারি। নির্ভীককণ্ঠে বললেন দুঃসাহসী আবুযার।


তিনি মসজিদে গেলেন।


কুরাইশরা তখন বসে বসে গল্পগুজবে মশগুল।


তাদের মধ্যে ঝড়ের বেগে উপস্থিত হলেন আবুযার। বজ্রের মতো তার কণ্ঠ। বললেন,


হে কুরাইশ গোত্রের লোকেরা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি এক আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রভু নেই। মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।


তার কথাগুলো সীসার মতো কুরাইশদের কানের ভেতর বিঁধে গেল। তীরের ফলার মতো আঘাত করলো তাদের হৃদয়ে।


ক্রোধে ফেটে পড়লো তারা ক্ষুধার্ত বাঘের মতো। তারা ঝাঁপিয়ে পড়লো আবুযারের ওপর। আঘাতের পর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে দিল তাকে।


রক্তাক্ত হলেন আবুযার।


নবীর (সা) চাচা আবদুল মুত্তালিব তাকে রক্ষা করলেন কুরাইশদের হাত থেকে। ধমকের সাথে বললেন তিনি, এ কি করছো তোমরা? গিফার গোত্রের লোকের গায়ে আঘাত করলে? তোমরা বাণিজ্যে যাবে কোন্‌ পথে? জানো তাকে হত্যা করার পরিণাম কি হতে পারে!


ক্রুদ্ধ কুরাইশরা ছেড়ে দিল তাকে।


একটু সুস্থ হয়ে তিনি ফিরে এলেন নবীর (সা) কাছে। তাকে রক্তাক্ত দেখে ব্যথিত হলেন নবী (সা) । বললেন,


তুমি ফিরে যাও। ফিরে যাও তোমার গোত্রে। সেখানে গিয়ে তুমি দীনের দাওয়াত দিতে থাকো। মানুষকে সত্যের পথে ডাকো। আল্লাহর পথে ডাকো। নবীর (সা) কথা বলো। তারা উপকৃত হবে। আর যখন জানবে- আমি প্রকাশ্যে দাওয়াত দিচ্ছি, তখন আবার আমার কাছে ফিরে এসো।


আবুযার ফিরে গেলেন প্রিয় নবীর (সা) নির্দেশ মতো। ফিরে গেলেন নিজের গিফার গোত্রে।


তার আহ্বানে নিজে পরিবারের একে একে সবাই ইসলাম কবুল করলেন। সত্যের আহবানেসাড়া দিলেন একজন দু’জন করে গিফার গোত্রের অনেক লোক। শান্তির সুবাতাস টেনে নিলেন তারা বুক ভরে।


নবী (সা) প্রকাশ্যে দীনের দাওয়াত দিচ্ছেন, শুনলেন আবুযার।


তিনি আর দেরি না করে রওয়ানা হলেন মক্কার পথে।


আবারও মক্কায় এলেন আবুযার। গোত্রের লোকদের সাথে তিনি মরুভূমিতে থাকেন।


একে একে শেষ হলো বদর উহুদ ও খন্দকের মতো বড় বড় যুদ্ধের দিনগুলো।


২য় অংশ


তারপর একদিন তিনিও হিজরত করলেন মদীনায়।


মদীনায় এসে আবুযার নবীকে (সা) আরও বেশি করে কাছে পেলেন। তাঁর সেবা, যত্ন আর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দেন সময়গুলো।


তাবুকের যুদ্ধের জন্যে বেরিয়ে পড়লেন নবী (সা)। সাথে অন্যান্য সাহাবীও আছেন।


অনেকে এসেছেন। আবার আসেননি অনেকেই। আবুযারকেও দেখা যাচেনছ না। কেউ কেউ রাসূলকে (সা) বললেন, নিশ্চয়ই আবুযার পিছটান দিয়েছেন!


রাসূল (সা) কিছুই বললেন না। শুধু শুনলেন তাদের কথা। হঠাৎ একজন বললেন, ঐ যে- দূর থেকে কেউ যেন একাকী আসছেন।


নবী (সা) সেদিকে না তাকিয়েই বললেন, আবুযারই হবে।


সত্যিই তাই।


মাঝফথে দুর্বলউটের পিঠ থেকে মালপত্র নামিয়ে নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি পায়ে হেঁটেই পৌঁছুলেন সেখানে।


ক্লান্ত আবুযারকে দেখে সবাই অবাক হলেন।


রাসুল (সা) বললেন, আল্লাহ আবুযারের ওপর রহম করুন। সে একাকী চলে, একাকী মরবে, কিয়ামতের দিন একাই উঠবে।


হলোও তাই।


নবীর (সা) কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হলো।


রাসূলের (সা) ইন্তেকালের পর আবুযার চলে গেলেন মদীনা ছেড়ে। না নিজের গোত্রে, না কোনো লোকালয়ে।


তিনি চলে গেলেন মদীনা থেকে অনেক- অনেক দূরে, মরুভূমির আর এক প্রান্ত রাবজা নামক স্থানে।


তাঁর এই স্বেচ্ছা-নির্বাসনে সবাই অবাক হলেন।


কিন্তু পর্বতের মতো শক্ত রইলেন আবুযার।


এই তেপান্তর মরুভূমিতে পর্যাপ্ত খাবার নেই। নেই পানির সুব্যবস্থা। নেই আরাম আয়েশের কোনো উপাদান।


দুনিয়ার বিলাসত্যাগী সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। পরকালপ্রেমিক আবুযার সেখানে কঠিন জীবন যাপন করতে থাকলেন।


সাথে ছিলেন তার স্ত্র।


রোগে ভুগে কাহিল হয়ে পড়লেন আবু যার। তিনি তখন খুবই অসুস্থ।


পাশে বসে কাঁদছেন তাঁর স্ত্রী।


আবুযার বললেন- কাঁদছো কেন?


এই জনমানবহীন মরুভূমির মধ্যে আপনি পরকালের দিকে যাত্রা করছেন। এখানে কোনো কিছুই নেই। এমনকি আমাদের দু’জনের পরিধানের বস্ত্র ছাড়া আমাদের কাছে আর কোনো সম্বল নেই। আল্লাহ না করুন, আপনি মারা গেলে আপনার কাফনের কাপড় তো সংগ্রহ করতে পারবো না! বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠলেন তাঁর স্ত্রী।


তিনি ধীর কণ্ঠে বললেন- কেঁদোনা!


কেন? স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন।


আবুযার বললেন, একটি সুসংবাদ আছে।


সুসংবাদ? স্ত্রীর চোখে আনন্দধারা ঝিলিক দিয়ে উঠলা।


হ্যাঁ। সুসংবাদ। আমি নবীকে (সা) বলতে শুনেছি, যে মুসলমানের দুই অথবা তিনটি সন্তান মারা গেছে, জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্যে তাই যথেষ্ট।


তিনি আরও বলেছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন একজন আছে যে মরুভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে। এবং তার মৃত্যুর সময় অকস্মাৎ একদল মুসলমান সেখানে উপস্থিত হবে। আমি ছাড়া আর সকলে লোকালয়ে মার গেছে। অতএব আমার ‍মৃত্যু হবে এই মরুভূমিত। আর তুমি দেখে নি, একদল মুসলমান অবশ্যই এখানে এসে যাবে।


আবুযার দৃঢ় কণ্ঠে স্ত্রীকে বললেন।


গায়েবি সাহায্যের প্রত্যাশায় আবু যারের স্ত্রী রাস্তার দিক তাকিয়ে থাকলেন।


কী আশ্চর্য! সত্যিই এলো গায়েবি মদদ।


একদল ইয়ামেনী মুসলমান কুফা থেকে আসছিল। তাদেরকে দেখে ইশারায় ডাকলেন আবুযারের স্ত্রী।


তারা এসেই জিজ্ঞেস করলেন ইনি কে?


আবুযার।


রাসূলুল্লাহর (সা) সাহাবী?


হ্যাঁ।


আবুযারের কথা জেনেই তারা সেখানে গেলেন।


তারা এগিয়ে গেলেন অসুস্থ আবুযারের শয্যার পাশে।


আবুযার তাদেরকে রাসূলের (সা) ভবিষ্যদ্বাণী শুনালেন তারপর বললেন,


যদি আমার অথবা আমার স্ত্রীর কাছে কাফনের পরিমাণ কাপড় পাওয়া যায় তাহলে তা দিয়েই আমার কাফনের ব্যবস্থা করবে। আর যে ব্যক্তি সরকারের ক্ষুদ্রতম পদেও অধিষ্ঠিত, আল্লাহর কসম! সে যেন আমার কাফন না পরায়।


আবুযার ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ মানুষের মতো।


জীবন যাপনে ছিল না তার বিলাসিতা। দুনিয়ার সুখের জন্যে এতটুকুও তিনি লালয়িত ছিলেননা।


অতি সাধারণভাবে তিনি জীবনযাপন করতেন। তার ঘরে কোনো আসবাবপত্রও ছিল না। ছিল না সংসার যাপনের জন্যে অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রীও।


একবার একজন তার ঘরে প্রবেশ করে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার ঘরে তো কিছুই নই! আপনার আসবাবপত্র কোথায়?


আখেরাতে। সেখানে আমার কেটি বাড়ি আছে। আমার যাবতীয় আসবাবপত্র সেখানেই পাঠিয়ে দিয়েছি। আবুযার হেসে জবাব দিলেন।


আবুযার ছিলেন প্রকৃত অর্থেই আখেরাতপ্রত্যাশী। আর দুনিয়ার সম্পদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত নির্লোভী। মেহাহীন।


সিরিয়ার আমীর তার কাছে একবার তিনশ’ দীনার পাঠালে তিনি অত্যন্ত রেগে গেলেন। বললেন, শামের আমীর কি আমার থেকে অধিকতর কোনো নীচ ব্যক্তিকে পেলেন না!


দীনারগুলি গ্রহণ না করে তিনি পুনরায় ফেরত পাঠালেন।


হযরত আবুযার ছিলেন সরল, সাদাসিধে। দুনিয়া বিরাগী। নির্জনতাপ্রিয়। আবার তিনিই ছিলেন জ্ঞানের সমুদ্র। ছিলেন সত্যের জ্বলন্ত শিখা।


নবী (সা) তার সম্পর্কে একবার বলেছিলেন, আসমানের নিচে এবং জমিনের ওপরে আবুযার সর্বাধিক সত্যবাদী ব্যক্তি।


এই সত্যবাদী জ্ঞানের মহাসমুদ্র ঘুমিয়ে পড়লেন একদিন।


ঘুমিয়ে পড়লেন চিরতরে দুনিয়ার ভিখারী সম্বলহীন, নিঃসঙ্গ এক বেদুইন ঠা ঠা মরুভূমির উত্তপ্ত বালির ভেতর।


আবুযার!


সত্যের সিংহপুরুষ! তার মৃত্যু নেই।


তিনি মরেননি। সত্যের নক্ষত্রেরা মরেন না কখনো। 

Related Products

Free Shipping

Free on order over ৳. 500

Security Payment

100% security payment

7 Day Return

7 day money guarantee

24/7 Support

Support every time fast